A Journey By Train || রেল ভ্রমণ আমার কেমন কাটল 2022

রেল ভ্রমণ-২০২২

আজ বলছি যাত্রাপথে রেল ভ্রমন এর গল্প মানে হল A Journey By Train Chittagong to Sylhet এবং আমার প্রিয় বাহনের গল্প। রেল হচ্ছে পৃথিবীর একমাত্র বাহন যা হরেক রকম আওয়াজ করতে পারে চট্টগ্রাম টু সিলেট রেল ভ্রমণ অন্যতম সেরা রেলভ্রমণ যদিও এর আগেও সিলেটে রেল ভ্রমণ করা হয়েছে ।কিন্তু পরিস্থিতি কিংবা মূহুর্তের অভাবে ক্যামেরা বন্দি হয়নি।

A Journey By Train Chittagong to Sylhet
A Journey By Train Chittagong to Sylhet

যাই হোক চট্টগ্রাম থেকে ১৭ মিনিট লেইটে সকাল ৯:১৭ মিনিটে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস সিলেটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। আমার সাথে ছিলেন বড় ভাই এবং আমার দেখা বেস্ট বাজেট ট্রাভেলার Asif Haider ভাই। ট্রেন চলছে ট্রেনের গতিতে ট্রেনের মধ্যে কয়েকজন সিলেটের মানুষের সাথে পরিচয় ঘটলো। তারা খুবই আন্তরিক মনের মানুষ ছিল।

আমাদের সাথে তাদের সিলেট কে রিপ্রেজেন্ট করছে বিভিন্ন গল্পজুড়ির মাধ্যমে।একসাথে চা খেলাম এবং ক্যান্টিনে আড্ডা জুড়ে দিলাম , চায়ের বিল ওরা কোনোভাবেই আমাদের দিতে দিচ্ছে না। সময়গুলো ভালোই কাটতে লাগলো । কিন্তু বাঁধল লাকশাম স্টেশনে এসে আমরা কখনোই ভাবিনি এইখানে ট্রেন প্রায় ৫০ মিনিট দাঁড়াবে যদিও এইটা অনেক পরিচিত স্টেশন তারপর ও চট্টগ্রামী মহানগর এক্সপ্রেস কে সাইড দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়েছিলো…

স্টেশনে নেমে এইদিক ওইদিক চললাম.. মানুষ ও ছিলো অনেক… একপ্রকার বিরক্তি লাগলো লাকসাম স্টেশনে… এরপর ট্রেন ছুটলো আবার আমাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে… এইবার আর একটি ঝামেলার পালা… লাকসামের পরের স্টেশনে “লালমাই” এসে ইঞ্জিন ত্রুটি জনিত সমস্যা দেখা দিয়েছে.. তখন ঘোষনা আসলো এই স্টেশনে নূন্যতম ১ ঘন্টা বিরতি থাকবে… অথচ লালমাই স্টেশনে অন্য কোনো সময় পাহাড়িকা এক্সপ্রেস যাত্রাবিরতি দেয় না…..তখন আমাদের মতো ট্রাভেলার দের আর আটকায় কে?
আমরা ট্রাভেলার রা যেকোনো মুহুর্তে যেকোনো পরিস্থিতি উপভোগ করি…

তেমনি উপভোগ করলাম লালমাই স্টেশন… কম পরিচিতি রেল স্টেশন হওয়ায় যাত্রী ছাড়া কোনো মানুষজন ছিলো না বললেই চলে.. আমাদের বগী ছিলো সবার শেষে….কিন্তু চলতে চলতে আমরা একেবারে ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে চলে এসেছি..তখন চলছে আমাদের ছবি তোলা.. হঠাৎ ঘোষনা আসলো ট্রেন ছেড়ে দিবে… কিন্তু ১ ঘন্টা হওয়ার আগেই ৪০ মিনিটে ট্রেন ছেড়ে দিলো… আমাদের বগি সবার শেষে হওয়ার.. কোনোভাবে অন্যবগিতে উঠে ট্রেনের অভ্যন্তরে হেটে… শেষ বগীতে পৌছাই

এইবার শুরু হচ্ছে আর একটি মজার কাহিনি.. আমাদের বগী ক্যন্টিনের সাথে হওয়ায়…ক্যান্টিন বয় এসেছে আমাদের থেকে খাবারের অর্ডার নিতে…আমরা জিজ্ঞেস করলাম কি খাবার এবং কত দাম? সে বলল তখন সে আখাউড়া থেকে খাবার তুলবে.. খাবারে থাকবে খিচুড়ি এবং চিকেন আর দাম বললো ১৫০ টাকা… যেহেতু ট্রেন জার্নিতে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে তখন তাকে বললাম থাক নিবো না..কিন্তু ওই ব্যাটা নাছোড়বান্দা আমাদের খালি বোঝানোর চেষ্টায় আছে. Read More : অনলাইনে আয় করার সহজ উপায়

যে খাবার পাবেন না হেন তেন কত কথা… পরিশেষে ওরে না করতে সক্ষম হয়েছি 😄…ট্রেন যখন আখাউড়া স্টেশনে আসলো তখন নিজেই স্টেশনে নেমে দুপুরের খাবার আনতে গেলাম.. তখন আমার ট্যুরমেট আসিফ ভাই চিন্তিত ছিলো কখন ট্রেন ছেড়ে দেয় আবার… তারপর গেলাম স্টেশনের একটি হোটেলে.. ওইখানে জিজ্ঞেস করলাম কি কি আছে তখন ওরা বললো চিকেন খিচুড়ি আছে.. দাম জিজ্ঞেস করাতেই বললো ৮০ টাকা

তখন দেরী না করে নিয়ে ফেললাম.. দোকানের মালিকের ব্যবহার যথেষ্ট ভালো সে তখন নিজ থেকেই বললো আপনাকে দেখে ভ্রমণকারী মনে হচ্ছে… এই নেন আমার কার্ড রাখেন আবার এই রাস্তায় গেলে আমাকে কল দিলে হবে আপনাদের বগীতে গিয়ে খাবার দিয়ে আসবো তাছাড়া আর একটি যে বিষয় বললো তার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না রাসেল ভাই 😆..সে বললো ট্রেনের যাত্রীদের থেকে যে খাবার অর্ডার নেওয়া হয় ১৫০ টাকা করে…

ক্যান্টিন বয়রা উনার কাছ থেকে ৭৫ টাকা দিয়ে কিনে.. ট্রেনে ১৫০ টাকা বিক্রি করে… তারমানে বিষয়টা দাঁড়ায় ট্রেনের ক্যান্টিন বয় ৭৫ টাকার খিঁচুরি দিয়ে দ্বিগুন লাভ করছে যা প্রতিনিয়ত । .তখন নিজেকে বাহবা দিলাম.. ট্রেনের ভিতর অর্ডার না করে ভালোই করেছি ।

যখন ক্যান্টিনে এসে আমরা আমাদের খাবার খাচ্ছি তখন ক্যান্টিন বয় অবাক চোখে তাকিয়ে রয়েছে.. তার মুখ তখন দেখার মতো ছিলো 😁…এরপর ট্রেন চললো ট্রেনের গতিতে…তখন খাবার পর ট্রেনের মধ্যে ১ ঘন্টা ঘুমিয়ে নিলাম 😊…শ্রীমঙ্গল আসার আগে আমরা শুধু ট্রেনের মধ্যে পায়চারি করছি তো করছি… একবার গার্ড রুম তো একবার ক্যান্টিন ইত্যাদি… ট্রেন যখন শ্রীমঙ্গল আসলো… তখন পড়ন্ত বিকেল…দূর থেকে উপভোগ করলাম চা-বাগান, রাবার বাগানের নান্দনিক সৌন্দর্য

এ যেন বহুরুপে অপরুপা। চলতে চলতে ট্রেন যখন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান অতিক্রম করছে তখন অনুভব করলাম অনেক শীতলতা তখনই ভাবলাম শ্রীমঙ্গল কেনো সমসময় ঠান্ডায় ভরপুর…পুরো রাস্তায় গরম কিন্তু এইখানে ঠান্ডা…. যখন দুই জংগল এবং পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে ট্রেন অতিক্রম করছে তখনই আপনার মন ছুঁয়ে যাবে যেমনটা ছুঁয়েছে আমাদের.

চারদিকে যেনো প্রাকৃতিক নৈসর্গতার ছোড়াছুড়ি .আর এই জংগলের মধ্যে ট্রেনের এদিক ওদিক বাঁক নেওয়া ও ছিলো অসাধারণ এভাবে শেষ বিকেল পাড় হলো এবং কুলাউড়া স্টেশনে এসে বিকেল শেষ হয়ে সন্ধ্যা গড়িয়ে এলো… পথিমধ্যে চাঁদের অপরুপ সৌন্দর্য উপভোগ করলাম এইপর ঠিক ৭:৪০ এ এসে সিলেট স্টেশনে নামলাম

ট্রেনের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগের জন্য কিছু পরামর্শ :
১/ দিনের বেলা ট্রেন জার্নি করুন
২/ সম্ভব হলে যাত্রায় নন এসি সিট ব্যবহার করবেন
৩/ পিছনের দিকের বগি নেওয়ার চেষ্টা করুন.. তাহলে ট্রেনের বাঁক দেখতে পারবেন😊

আর কিছু নির্দেশনা যা প্রত্যেক নাগরিকের জন্য প্রযোজ্য :

১/ ট্রেন থেকে কখনো বাহিরে ময়লা ছুড়ে ফেলবেন না(অনেকে করে দেখলাম কিন্তু এতে আমাদের মাতৃভুমির চরম পরিবেশ বিপর্যয় হচ্ছে)
২/ ট্রেনের কোনো কিছু নোংরা করবেন না যেমন:মেঝে, সিট, জানালা এবং ওয়াশরুম

পরিশেষে বলবো সময় কিংবা সুযোগ থাকলে অবশ্যই সরকারি বাহন ট্রেন ভ্রমন করুন । কেমন লাগলো আপনার কাছে আমার এই A Journey By Train Chittagong to Sylhet ব্লগটি কমেন্টস করে জানাতে ভূলবেন না। ধন্যবাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published.