কম্পিউটারের-জনক-কে

কম্পিউটারের জনক কে? কাকে আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয়?

কম্পিউটারের জনক কে?

কম্পিউটারের জনক কে, আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে? এটা নিয়ে আমাদের মাঝে অনেকেই সংশয়ে থাকি । আজ আমি এই বিষয় টি খুব ই সুন্দর ভাবে আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।  আধুনিক বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কম্পিউটার (computer) এক বিস্ময়কর আবিষ্কার। আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির কেন্দ্রীয় টুল হলো কম্পিউটার। গণনাকারী যন্ত্র হিসেবে এর যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে এর কার্যক্ষমতার বিস্তৃতি পূর্বের সকল সীমাবদ্ধতাকে ছাড়িয়ে দিন দিন নতুন কার্যক্ষমতার রেকর্ড গড়ে চলেছে।

এটির দ্রুত ও নির্ভুল কাজের রহস্য হল গাণিতিক যুক্তি সিদ্ধান্ত এবং মানুষের প্রদান করা প্রোগ্রামিং ও ডেটা।মানুষ প্রদত্ত মেমরি,বুদ্ধি, ক্ষমতা ও যুক্তির ভিত্তিতে এটি গাণিতিক সমস্যার নির্ভুল সমাধানসহ যেকোন কার্য দ্রুত সম্পাদন করে পারে।তবে এটি স্বীয় বুদ্ধিতে কোন কার্যক্রমই করতে পারে না মানুষ যতটুকু ক্ষমতা দিয়ে এটিকে তৈরি করে এটি শুধুমাত্র ততটুকুই কাজে লাগাতে পারে।

পূর্বের কম্পিউটারের তুলনায় বর্তমান কম্পিউটার দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং বিপুল কার্যক্ষমতাসহ জটিল গাণিতিক সমস্যার নির্ভূল সমাধানে দক্ষ। গ্রিক শব্দ থেকে কম্পিউটার শব্দটী আবির্ভূত হয়েছে। কম্পিউটার হল একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র যা তার মেমরিতে সংরক্ষিত থাকা নির্দেশের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয় যা ডেটা গ্রহন করে,ডেটাকে সুনির্দিষ্ট নিয়মে প্রক্রিয়াকরন করপ,ফলাফল তৈরী করে এবং ভবিষ্যতে পুনরায় এ ফলাফল ব্যাবহারের জন্য সংরক্ষণ করে।

এতে তথ্য প্রদানের জন্য যে ভাষা ব্যবহার করা হয় তাকে প্রোগ্রাম ল্যাংগুয়েজ বলা হয়।বিভিন্ন ধরনের ল্যাংগুয়েজ রয়েছে যেমন জাভা,অ্যালগল,ফোরট্রান,পাইথন ইত্যাদি। এসকল ভাষা ব্যবহার করে বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশলিক সমস্যার সমাধান করা হয়।এসব ল্যাংগুয়েজ এবং প্রোগ্রামস, ডেটা, প্রোটোকল ইত্যাদি সফ্টওয়্যারের অংশ।কম্পিউটারের-জনক-কে

একটি কম্পিউটারে সিস্টেমের অংশে যেখানে এনকোডড তথ্য বা কম্পিউটার নির্দেশাবলী সমন্বিত থাকে তাকে সফটওয়্যার বলে অভিহিত করা হয়।কম্পিউটার তিনটি অংশের মাধ্যমে কার্যসম্পাদন করে থাকে।ইনপুট, প্রসেসর,আউটপুট কীবোর্ড, মাউস,জয়স্টিক ইত্যাদি ইনপুট ডিভাইস দিয়ে কম্পিউটার ডেটা গ্রহন করে, ডেটা প্রসেস করে অর্থাৎ ব্যবহারকারীর নির্দেশে প্রোগ্রাম নির্বাহ করে মনিটর,প্রিন্টার ইত্যাদি আউটপুট ডিভাইসের মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করে ও পরবর্তীতে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করে।

কম্পিউটারের এ সমস্ত স্পষ্ট দৃশ্যমান অংশ যেমন সার্কিট, কম্পিউটার চিপস, গ্রাফিক কার্ডস, সাউন্ড কার্ডস, মেমরি (র‌্যাম), মাদারবোর্ড, ডিসপ্লে, পাওয়ার সাপ্লাই, কেবল, কীবোর্ড, প্রিন্টার এবং মাউসসহ যাবতীয় ইনপুট ডিভাইসগুলিকে হার্ডওয়্যার বলা হয়।কম্পিউটারকে আকার আকৃতি ও কার্যক্ষমতার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন বিভিন্ন শ্রেণিতে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। Read More : কম্পিউটার সফটওয়্যার ডাউনলোড করার নির্ভরযোগ্য ১০ টি ওয়েবসাইট

*** আর্কিটেকচার অনুযায়ী 
অ্যানালগ কম্পিউটার, ডিজিটাল কম্পিউটার, হাইব্রিড কম্পিউটার, হার্ভার্ড স্থাপত্য,ভন নিউমান আর্কিটেকচার, জটিল নির্দেশ কম্পিউটার, হ্রাস নির্দেশ কম্পিউটার

*** আকার অনুযায়ী
সুপার কম্পিউটার, মেনফ্রেম কম্পিউটার, মিনি কম্পিউটার ,সার্ভার(রেকমাউন্ট সার্ভার,ব্লেয়েইড সার্ভার,টাওয়ার সার্ভার)ব্যক্তিগত কম্পিউটার ( ওয়ার্কস্টেশন,মাইক্রো কম্পিউটার ,হোম কম্পিউটার), ডেস্কটপ কম্পিউটার( টাওয়ার ডেস্কটপ, স্লিমলাইন ডেস্কটপ), মাল্টিমিডিয়া কম্পিউটার ,গেমিং কম্পিউটার, সমস্ত ইন-ওয়ান পিসি, নেটটপ পিসি , মিনি পিসি, হোম থিয়েটার পিসি, কীবোর্ড কম্পিউটার, স্থানান্তরযোগ্য কম্পিউটার,পাতলা ক্লায়েন্ট।

*** ইন্টারনেট অ্যাপ্লায়েন্স ল্যাপটপ : ডেস্কটপ প্রতিস্থাপন কম্পিউটার,গেমিং ল্যাপটপ,টু ইন ওয়ান পিসি,আলট্রাবুক,সাবনেটবুক,

*** নেটবুক মোবাইল কম্পিউটার : টেবিল কম্পিউটার, স্মার্টফোন, আল্ট্রা মোবাইল পিসি,পকেপিসি, পামটপ পিসি, হ্যান্ডহেল্ড পিসি

*** পরিধানযোগ্য কম্পিউটার : স্মার্ট ওয়াচ , স্মার্ট চশমা

তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কম্পিউটার এর ব্যবহার বেড়েছে ব্যপক হারে।কম্পিউটার ছাড়া আমাদের এই শিল্প বিপ্লবের জীবন কল্পনা করা কঠিন।বড় বড় শিল্প কারখানা থেকে শুরু করে ছোট ছোট সব মোটর কারখানা, শিল্প প্রতিষ্ঠান বা আমাদের ব্যবহৃত অনেক ছোট ছোট ডিভাইসে এর অবাধ ব্যবহার রয়েছে। সময় এর সদ্ব্যবহার ও কঠিন থেকে কঠিনতম কাজকে অতি দ্রুত সম্পন্ন করে আমাদের জীবনে আরও সহজ করে তুলছে প্রতিনিয়ত এই কম্পিউটার। অদূর ভবিষ্যতে আরও যুগান্তকারী সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে এই কম্পিউটার।

 

আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে?

আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে? বর্তমান তথ্য প্রযুক্তি,রোবটিক্স,বিশ্বায়নের কিংবা মহাকাশ গবেষণার যুগে আমরা যে কম্পিউটার ব্যবহার করে চলছি তা একদিনে এইরুপ লাভ করেনি। দীর্ঘ পথ অতিক্রমের মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়েছে আধুনিক এ কম্পিউটার ।এর সাথে বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন দেশের বহু খ্যাতিমান ব্যক্তিদের নাম উঠে এসেছে। বহু বিজ্ঞানীর বহু সাধনা ও গবেষনার ফসল আধুনিক কম্পিউটার হলেও একজনকেই এর জনক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। জন ভন নিউম্যান,অ্যালেন টুরিং, আদা বায়রনসহ অনেক গবেষকদের অসামান্য অবদান রয়েছে এই কম্পিউটারের মানোন্নয়ন পেছনে।

ব্রটিশ বিজ্ঞানী চার্লস ব্যাবেজ কম্পিউটার উদ্ভাবনের জনক হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। তিনি ২৬ শে ডিসেম্বর ১৭৯১ সালে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন।ব্যাবেজ একটি ডিজিটাল প্রোগ্রামযোগ্য কম্পিউটারের ধারণার সূচনা করেছিলেন।তার উদ্ভূত গণক যন্ত্রই পরবর্তীতে আধুনিক কম্পিউটারের রুপদানের পথিকৃৎ হিসেবে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছে। ব্যাবেজ একাধারে গণিতবিদ, দার্শনিক, উদ্ভাবক এবং যান্ত্রিক প্রকৌশলী ছিলেন।

ব্যাবেজকে আধুনিক কম্পিউটারের জনক হিসাবে বিবেচনা করা হলেও তিনি প্রথম মেকানিকাল কম্পিউটার আবিষ্কার করার কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন ।তার আবিস্কৃত ডিফারেন্স ইঞ্জিন যা শেষ পর্যন্ত আরও জটিল বৈদ্যুতিন ডিজাইনের দিকে ক্রমান্বয়ে এগিয়ে গেছে। আধুনিক কম্পিউটারগুলির সমস্ত প্রয়োজনীয় ধারণা বাবেজের বিশ্লষণের মধ্যে পাওয়া যায় ।

অন্যান্য দিকে তাঁর বিবিধ কাজ তাকে তাঁর শতাব্দীর বহু আবিষ্কারকদের মধ্যে অধিক স্মরণীয় করেছে । ডিফারেন্স ইঞ্জিন এবং অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন সহ তার অনেকগুলি ডিজাইনের সম্পূর্ণ সফলতা অর্জনের পূর্বে মারা যাওয়া ব্যাবেজ কম্পিউটিংয়ের আদর্শ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসাবে আজীবন খ্যাত হয়ে আছেন। তিনি ১৮ অক্টোবর ১৮৭১ সালে মেলবোর্নে মৃত্যুবরন করেন।

প্রথমে ৮ এবং পরবর্তীকালে ২০ দশমিক সংখ্যা পর্যন্ত সংখ্যা গণনার যন্ত্র তৈরি করেন। ১৮৩৭ সালে তিনি অ্যানালিটিকাল ইঞ্জিন বা বিশ্লেষণ ধর্মী যন্ত্র আবিষ্কার করেন। এই যন্ত্রের গাণিতিক হিসাব করার ক্ষমতা ছাড়াও যান্ত্রিক স্মৃতিশক্তি, যুক্তি নির্ভর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল। পাঞ্চ কার্ড দিয়ে চালিত এই যন্ত্র ক্রমানুযায়ী কার্য সম্পাদনে সক্ষম ছিল। কবি লর্ড বাইরনের মেয়ে এডা বাইরন চার্লস ব্যাবেজের অ্যানালিটিকাল ইঞ্জিন প্রকল্পে সহকারী হিসেবে কাজ করেন।

এই সময় তিনি সংখ্যা গণনা করার অ্যালগরিদম বা ধাপে ধাপে সমাধান করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এটিই ছিল কম্পিউটারের সর্বপ্রথম এলগরিদম।১৯৪৪ সালে হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও আইবিএম কোম্পানি যৌথভাবে ইলেকট্রোমেকানিক্যাল কম্পিউটার আবিষ্কার করেন। যার ওজন ছিল ৩০ টন। এর দুবছর পরে আমেরিকার পেনসিলবানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ‘ইনিয়াক’ নামে ইলেকট্রনিক কম্পিউটার আবিষ্কার করেন। এটিকে প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটার হিসেবে অভিহিত করা হয়।

১৯৪৭ সাল থেকে আইবিএম কোম্পানি বাণিজ্যিকভাবে কম্পিউটর তৈরি ও বাজারজাতকরণ শুরু করে।মোটামুটি সত্তর দশকের পর থেকে আধুনিক কম্পিউটারের সূত্রপাত হলেও তখনও পর্যন্ত সেগুলো ছিল সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। আশির দশকের মাঝামাঝি এসে সাধারণ মানুষের নাগালে আসতে শুরু করে কম্পিউটার। ১৯৭১ সালে মাইক্রোপ্রসেসর উদ্ভাবনের ফলে কম্পিউটারের দ্রুত বিকাশ ঘটতে থাকে।১৯৬৪ সালে বাংলাদেশে কম্পিউটারের যাত্রা শুরু হয়।

১৯৮৭ সালে প্রথম বাংলা লেখা সম্ভব হয় কম্পিউটারে।১৯৮৮ সালে আনন্দ কম্পিউটার্স নামক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে অ্যাপেল ম্যাকিনটোশ কম্পিউটারে ব্যবহার উপযোগী প্রথম ইন্টারফেস বিজয়।এরপর১৯৯৩ সালে আবার মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এর সাথে ব্যবহারের জন্য উদ্ভাবিত হয় ইন্টারফেস বিজয়। বর্তমানে কম্পিউটার আরো উন্নতরুপে প্রতিনিয়ত হাজির হচ্ছে আমাদের সামনে।সহজ করে তুলছে আমাদের জটিল জীবনকে।

আশা করছি এতক্ষনে আপনি কম্পিউটারের জনক কে বুঝতে পেরেছেন। এই লেখাটি যদি আপনার কাছ ভাল লাগে তাহলে আপনি আপনার ফেইসবুকে শেয়ার করতে পারেন। এতে এই কম্পিউটারের জনক কে এই বিষয়ে পরিষ্কার একটা আইডিয়া নিতে পারবে সবাই। 

Leave a Comment

Your email address will not be published.