কমলার-উপকারিতা

১৭টি কমলার উপকারিতা জেনে নিন এখনই ২০২২

কমলার উপকারিতা

ভিটামিন সি-এর অন্যতম উৎকৃষ্ট উৎস হল টক-মিষ্টি রসালো ফল। সারা বছরই কেনা গেলেও শীত মৌসুমে বেশি পাওয়া যায়। কমলা বা কমলার জুস খান- দুটোই শরীরের জন্য ভালো।কমলালেবুতে রয়েছে একাধিক পুষ্টি উপাদান। যেমন পটাসিয়াম, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফাইটোকেমিক্যাল এবং ফ্ল্যাভোনয়েড। এই উপাদানগুলো নানাভাবে শরীরের গঠনে ভূমিকা রাখে। শীত পড়তে শুরু করলে নানা রোগের আশঙ্কা থাকে। এগুলো থেকে দূরে রাখতেও কাজ করে কমলা।কমলালেবু আমাদের প্রতিদিনের ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ করে।কমলার-উপকারিতা

একই সাথে এই ফলটিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। এই পুষ্টিগুলি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ছোটখাটো অসুস্থতা এবং সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। কমলালেবুতে প্রচুর ভিটামিনের পাশাপাশি অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন আলফা এবং বিটা ক্যারোটিন, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

কমলালেবুতে প্রচুর পরিমাণে ফ্ল্যাভোনয়েড থাকে যা ফুসফুস ও ক্যাভিটি ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর। তাই ক্যান্সার থেকে নিজেকে রক্ষা করতে প্রতিদিন ১টি করে কমলা খাওয়া উচিত।কমলালেবুর রয়েছে আরও অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা।

১) কমলালেবুতে রয়েছে দ্রবণীয় ফাইবার। যাকে পেকটিন বলে। এটি রক্ত ​​​​প্রবাহে শোষিত হওয়ার আগে শরীর থেকে কোলেস্টেরল অপসারণ করে। . এটি খারাপ কোলেস্টেরল কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে। যা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে।

২) কমলা ক্যারোটিনয়েডের সমৃদ্ধ উৎস। ভিটামিন এ চোখের মিউকাস মেমব্রেনকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন এ বয়স-সম্পর্কিত ভাস্কুলার প্যাথলজি প্রতিরোধের জন্যও দায়ী, যা চরম ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তিকে অন্ধ করতে পারে, চোখকে আলো শোষণ করতে সাহায্য করে।

৩) ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কমলালেবু খাওয়া উপকারী। এতে উপস্থিত পুষ্টি উপাদান এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এটি ইনসুলিন উৎপাদনে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করে।

কমলার খোসা খাওয়ার উপকারিতা

৪) কমলালেবুতে ভিটামিন সি এবং ফাইবার কম থাকে। যা মেদ কমাতে সাহায্য করে। চর্বি বাড়তে দেবেন না। যা শরীরের ওজন বাড়ায় না। শরীর ভারসাম্য বজায় রাখে।
৫) কমলা লেবুতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। যা বার্ধক্যজনিত লক্ষণগুলির জন্য পরিচিত। বিনামূল্যে র্যাডিক্যাল ক্ষতি থেকে ত্বক রক্ষা করতে সাহায্য করে। এটি ত্বককে সুন্দর করতে সাহায্য করে।
৬) কমলালেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে যা স্বাস্থ্যকর ইমিউন সিস্টেমের সঠিক কার্যকারিতা যেমন সর্দি এবং বারবার কানের সংক্রমণ প্রতিরোধে ভালো।

রেল ভ্রমণ আমার কেমন কাটল

৭) কমলালেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি যা একটি ভালো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়। যা জয়েন্টে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। উপরন্তু, ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট বিটা-ক্রিপ্টোক্সানথিনের জ্যাক্সটিং এবং অক্সিডেশন থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এটি হাড় সংক্রান্ত রোগ প্রতিরোধ করে।

৮) কমলা লেবুতে রয়েছে ডি-লিমোনিন, যা এক ধরনের যৌগ। যা ফুসফুসের ক্যান্সার, ত্বকের ক্যান্সার, এমনকি স্তন ক্যান্সারের মতো ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। কমলালেবুতে থাকা ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দুটোই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ – এগুলো ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। ফলের আঁশযুক্ত প্রকৃতি এটিকে ক্যান্সার থেকেও রক্ষা করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে ক্যান্সারের ক্ষেত্রে 15 শতাংশ পর্যন্ত ডিএনএ মিউটেশন জড়িত যা ভিটামিন সি দ্বারা প্রতিরোধ করা যেতে পারে।

কমলার খোসার উপকারিতা ও অপকারিতা

৯) কমলা লেবু কিডনির জন্য উপকারী। কারণ এতে রয়েছে ভিটামিন সি যা কিডনির পাথর প্রতিরোধ করে। কমলা লেবু অবশ্যই আপনার ফলের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
১০) ব্রেস্ট ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার ও স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় কমলা।
১১) অনেক সময় আমাদের শরীরে ভিটামিন সি-এর ঘাটতি হলে শরীর প্রাণহীন হয়ে পড়ে। কমলালেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। ত্বকের সজীবতা ও সজীবতা বজায় রাখতে প্রতিদিন কমলা খান।

১৩) নিয়মিত কমলা ও লেবুর রস খেলে শরীরে এমন কিছু উপাদানের মাত্রা বেড়ে যায় যা আলসারের প্রকোপ কমায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো রোগ প্রতিরোধ করে। শুধু তাই নয়, পেটের বিভিন্ন অসুখের প্রকোপ কমাতেও এই পানীয় বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

কমলা খাওয়ার নিয়ম

১৪) শীতকালে, আপনি লক্ষ্য করবেন যে জয়েন্টের ব্যথার কারণে ব্যথা অনেক বেড়ে যায়। কারণ এই সময়ে শরীরের অভ্যন্তরে প্রদাহের মাত্রা থাকে না, যে কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে কমলা লেবু এক্ষেত্রেও আপনাকে সাহায্য করতে পারে। কিভাবে? এই ফলের মধ্যে রয়েছে শরীরের কিছু উপকারী উপাদান যা প্রদাহ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এখন বুঝতেই পারছেন শীতে নিয়মিত কমলা ও লেবুর শরবত খাওয়া কতটা দরকার!

১৫) ভিটামিন সি-এর অভাবজনিত ক্ষতের ওষুধ হিসেবে কমলা খুব ভালো কাজ করে। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
১৬) সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও সচেতনতার অভাবে কিডনিতে পাথর হতে পারে। যদি অব্যবস্থাপনা না করা হয় তবে তারা বিপথগামী হতে পারে এবং সঠিক পথ হারাতে পারে। কমলালেবুতে থাকা ভিটামিন সি কিডনিকে সুস্থ রাখতে কাজ করে। এটি কিডনিতে অ্যাসিডের মাত্রা কমায় এবং ক্যালসিয়াম অক্সালেট তৈরিতে বাধা দেয়। ফলে এই মারণ সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব।
১৭) কমলালেবুতে উপস্থিত বিটা ক্যারোটিন কোষের ক্ষতি রোধ করতে সাহায্য করে। এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম যা দাঁত ও হাড় গঠনে সাহায্য করে।

কমলালেবু ভিটামিন সি রয়েছে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন 30 মিলিগ্রাম ভিটামিন সি প্রয়োজন। যা একটি কমলালেবু থেকে খুব সহজেই পাওয়া যায়। আজ আমরা কমলার উপকারিতা আলোচনা করেছি। আশা করি ভালো করে বুঝতে পেরেছেন।

কমলা খাওয়ার নিয়ম বা কমলার উপকারিতা নিয়ে ব্লগটি যদি আপনার কাছে ভাল লাগে তাহলে আপনার ফেসবুকে শেয়ার করে দিন । ধন্যবাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published.